জ্বালানি বা গ্যাসের তীব্র সংকটে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শিল্পের উৎপাদন ৩০-৪০ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে কিন্তু সরবরাহ নেই। এর জন্য কে দায়ী? ক্ষুদ্র শিল্পের ৫০-৬০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে।’
বনানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) কার্যালয়ে গতকাল মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিসিআই সভাপতি। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।
প্যানেল আলোচক ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. একেএম আতিউর রহমান, বিল্ডের গবেষণা পরিচালক ড. ওয়াসেল বিন সাদাত এবং পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম।
সেমিনারে আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘অর্থনীতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সরকার ব্যবসায়ীদের কথা শুনছে না। ঢাকা জনবহুল শহরে পরিণত হয়েছে। এখানে লোক এসে ভরে গেছে। সবাই টেসলা (অটোরিকশা) চালায়। কিন্তু কেন? কেউ কি খবর রাখছে? তাদের সবারই চাকরি ছিল।’
এনবিআর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনবিআরের সংস্কার হওয়া দরকার। এর অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। ঠিকমতো ফাংশন করছে না। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হলে এফটিপি-পিটিএ করতে হবে, তখন এনবিআরের আয় আরো কমে যাবে। সরকার এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা কম আয় করেছে। আরো নাকি বাড়ানো হবে। আমরা ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত, এগুলো আমাদের ওপর চাপানো হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, ‘মে থেকে রিয়েল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট (আরইইআর) সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে, এটি রফতানিকারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আর বাজার থেকে ডলার কিনে টাকার অবমূল্যায়ন ঘটাতে পারে না; ফলে আমদানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করাই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ, যা রফতানিকারকদেরও সহায়তা করবে। অধিকতর সক্রিয় আমদানি প্রবাহ নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে ও রফতানি পরিবেশকে আরো গতিশীল করবে।’
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান বলেন, ‘আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে দেশের অর্থনীতি। কঠিন পদক্ষেপ না নিলে উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে দেশের অর্থনীতিতে মধ্যমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা সংকুচিত হতে পারে। কীভাবে এ খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।’
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একেএম আতিকুর রহমান বলেন, ‘অনেকে বলছে আগেই ভালো ছিলাম। অর্থনীতির যে অবস্থা ছিল তাতে সরকারকেই চলে যেতে হতো। এখন কিছুটা স্থিতিশীল। ট্যাক্স জিডিপির অনুপাত ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০০৭-৮ সালের সরকার অন্যরকম ছিল, তাই তখন ট্যাক্স সংগ্রহ বেশি হয়েছে। আমলা, অফিসাররা ঘুস খাবে এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। কীভাবে বের হবে সেটা সরকারকে দেখতে হবে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি নির্ধারণ করা দরকার। সামনে নির্বাচনের পর হয়তো কিছুটা স্থিতিশীলতা আসবে।’